পাঁচশতাধিক শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে এম.এন. বি ইটভাটা চালু রাখার দাবি

পাঁচশতাধিক শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে এম.এন. বি ইটভাটা চালু রাখার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার:
পাঁচশতাধিক শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে তালার কুমিরায় এম.এন. বি ইটভাটাটি চালু রাখার আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভাটাটি চালু রাখার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে চারশতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত আবেদন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জমা দিয়েছেন।
আবেদন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ৪০ বছর পূর্বে তালার কুমিরার স্বরস্বতী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ড্রাম চিমনীর ইটভাটা স্থাপন করেন একই এলাকার দুলাল পদ বিশ্বাস। ভাটা পরিচালনায় করতে গিয়ে ঋণগ্রস্থ হয়ে ১৯৯৯ সালে ঢাকায় পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যশোরের সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ এন.বি নামে ড্রাম চিমনীর ভাটাটি ফিক্সড চিমনীর ভাটায় রূপান্তর করেন।
একপর্যায়ে তিনিও ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়লে দুলাল বিশ্বাসের মাধ্যমে ভাটাটি পাটকেলঘাটার ভারসা গ্রামের খায়রুল ইসলাম মনুর কাছে বিক্রয় করেন। তিনি এম এন বি নাম নিয়ে ভাটাটি পরিচালনা শুরু করেন। সেখানে পাঁচশতাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্ষা মৌসুমে শ্রমিকরা অগ্রীম টাকা নিয়ে সংসার পরিচালনা করেন এবং ভাটার মৌসুম আরম্ভ হলে কাজ করে অগ্রীম নেওয়া টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করেন।
এদিকে ভাটাটির পূর্বের মালিক দুলাল পদ বিশ্বাস ইট ভাটাটি পুনরায় দখল করার জন্য চক্রান্ত শুরু করে। আর এ কারণে শাহাজান বিশ্বাস, মৃনাল কান্তি দে, সমেশ হালদার বুদ্ধ, বলরাম শর্ম্মাসহ কতিপয় ভাড়াটিয়া দালালদের সহযোগিতায় বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তি করে ভাটাটি বন্ধের পায়তারা শুরু করে। তাদের উস্কানিতে এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের সাথে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
অথচ চলমান মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমান ইটভাটাটির মালিক খায়রুল ইসলাম মুন গ্রামের অসহায় দুস্থ মানুষদের সরাসরি নগদ অর্থ এবং খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতার পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ তহবিলেও অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া বিক্রয় না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যায় মজুরী পরিশোধ করে যাচ্ছে। কষ্ট হলেও ভাটাটি এখনো সচল রেখেছেন।
অন্যদিকে ভাটার মালিক চরম অর্থ সংকটে থাকলেও বর্ষা মৌসুমের শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে মানবতার পরিচয় রেখেছেন। এতে তিনি বর্তমানে অনেক ঋণগ্রস্থও হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় যদি ভাটাটি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে সেখানে কর্মরত পাঁচশতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে। খায়রুল ইসলাম মনুকে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পলাতক জীবন যাপন করতে হবে। বিশেষ করে পূর্বে ভাটায় শ্রমিকের কাজ করা শাহাজান উৎপাদন ভালো দিতে না পারায় তাকে ছাটাই করা হয় ক্ষিপ্ত হয়ে এধরনের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে এবং মৃণাল কান্তি দে হারির টাকা বেশি দাবি করে বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে নদীর ধারে ভাটাটির অবস্থান হওয়ায় উশৃঙ্খল মাদকাসক্ত যুবকরা সেখানে মাদক সেবন করতে না পারায় কৌশলে তারা ভাটাটি বন্ধের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার স্বার্থে ভাটাটি বন্ধ না করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related posts

Leave a Comment