সাতক্ষীরার ঘোনায় “দা বাহিনী” কতৃক বসত বাড়ীতে হামলা || ভয়ে বাড়ি ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাতক্ষীরা সদর থানাধীন ঘোনায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ০১ নভেম্বর রবিবার রাত সাড়ে আটটার সময় এঘটনা ঘটে। এসময় গুরুত্বর আহত ঘোনা বাশিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ মোমিন আলী।
এঘটনায় আহতের ছেলে মোঃ শামিম হোসেন ঘটনার পর দিন ০২ নভেম্বর সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করে এবং ০৩ নভেম্বর পুলিশ তদন্ত করে মূল এজাহার হিসেবে গন্য করে। যার নম্বর-০৮।
এজাহার সূত্রে জানাযায়, ঘোনা ক্যাম্পপাড়া এলাকার মৃত জবেদ আলীর ছেলে ১.মোঃ কায়েম(৩৫), মৃত আঃ খালেক ডাকাতের দুই ছেলে ২.মোঃ এবাদুল ইসলাম(৩৮), ৩.ওবায়দুল ইসলাম(৩৩), মৃত জবেদ আলীর ছেলে ৪.পোড়া মনির, খায়রুল ইসলামের পালিত ছেলে ৫.জাকির হোসেন(২৬)সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন বাদীর বসত বাড়ীর গ্রীলের দরজা ভেঙে দা, লোহার রড, তালের রুলকাঠ, হাতুরী নিয়ে হামলা ও ভাংচুর করে। এসময় বাদীর পিতা মোঃ মোমিন আলী প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিট বেদম মারপিট করে।
এসময় তার চোখ মুখ সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাটা জখম হয় ও দুই হাত ভেঙে যায় এবং আহত হয় বাদীর দুই বছরের শিশু কন্যা শিমলা। এসময় হামলকারীরা ঘরে থাকা নগদ ৭৩ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ১লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধ করে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী এসে আহত মোঃ মোমিন হোসেনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
এঘটনায় বাদী মোঃ শামীম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, হামলাকারীরা প্রত্যেকে মাদক ব্যবসায় জড়িত। আনমানিক দেড় মাস আগে মামলার ২ ও ৩ নং আসামী মোঃ এবাদুল ইসলাম, ওবায়দুল ইসলাম’র বাড়ীতে ভারতীয় মাদক ফেন্সিডিল আছে এমন গোপন তথ্য পেয়ে অভিযান করে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ। এসময় উক্ত ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১২৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী ওবায়দুল ইসলামকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। এঘটনাকে কেন্দ্রকরে ওবায়দুল’র ভাইসহ ঐ মাদক ব্যবসায়ীরা প্রথমে ঘোনা কাজীপাড়ার কাজী কছিম উদ্দিনের ছেলে কলেজ ছাত্র ইমরান ও একই এলাকার মাকফুর রহমানের ছেলে কৃষক মামুনকে হাতুরীপেটা করে সে সময় তাদের বিরুদ্ধে ইমরান মামলা করে এবং স্থানীয় গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় কিছুদিন সবাই গা ঢাকা দিয়ে আদলত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে আসে তারা। এরই কিছু দিন পরে মাদক ব্যবসায়ী ওবায়দুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়ে ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১ নভেম্বর আমার বাড়িতে হামলা করে।
শামীম আরো বলেন, আসামীরা ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা’র ‘দা বাহিনী’ নামে পরিচিত। চেয়ারম্যান এর লোক হওয়ায় ও কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনা। চেয়ারম্যান তাদের সকল কাজে আশ্রয়দাতা। তারা বর্তমানে এলাকায় প্রতাপের সাথে চলছে। আমি ঘটনার দিন থেকে তাদের ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছি না পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তারা আমাকে মেরে ফেলবে বলে এলাকায় ঘোষনা দিয়েছে।
ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা’র কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন মোমিনের বাড়িতে হামলা হয়েছে শুনেছি মোমিন ও তার ছেলে শামীম মনিরকে আগে মারছে। “দা বাহিনী”র বিষয়ে তিনি বলেন নিজের নিরপত্তার জন্য সাথে লোকজন থাকে সব চেয়ারম্যানের লোক থাকে তবে দা বাহিনী বলে কিছু নাই। এসময় তিনি সরেজমিন তদন্ত করতে বলেন।
এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, এঘটনায় মামলার ৩নং আসামী ওবায়দুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। বাদীকে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এধরনের কিছু তিনি জানেন না। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের সংযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন চেয়ারম্যানের সংযোগ আছে কিনা জানি না তবে এলাকায় গ্রুপিং আছে তারা চেয়ারম্যানের গ্রুপের লোক।
এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অপরাধীদের দ্রæত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে ও ভুক্তভোগী পরিবার এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related posts

Leave a Comment