সাতক্ষীরায় সিআইডি’র প্রেস ব্রিফিং–গালমন্দ ও খাওয়ার খোটা দেওয়ায় কলারোয়ায় চারজনকে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্টঃ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চাঞ্চল্যকর দুই শিশু সন্তানসহ চার খুনের ঘটনায় সিআইডি প্রেস ব্রিফিং করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল পৌনে পাঁচটায় শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন সিআইডি কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং করেন, ঢাকা জোনের সিআইডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক। এসময় সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসব্রিফিং-এ অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক জানান, নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুলকে গত সোমবার পাঁচদিনের রিমান্ডে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়। আড়াই দিনের জিঙ্গাসাবাদে রায়হানুল দোষ স্বীকার করে তাদের কাছে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে। রায়হানুল জানিয়েছে, সে বেকার থাকায় তার ভাই-ভাবী প্রতিনিয়ত তাকে গালমন্দ ও খাওয়ার খোটা দিতো। এসব কারণে এবছরের প্রথম দিকে রায়হানুলের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। তারপরও ভাই- ভাবীর সংসারে সে মুখ বুজে ছিলো। কিন্তু থেমে থাকেনি তাদের বকা ঝকা। তাই তাদেরকে খুন করার পরিকল্পনা করে রায়হানুল।
পরিকল্পনা মাফিক ঘটনার দিন ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে কোমল পানীয় স্প্রাইটের সাথে ঘুমের ওষুধ ডিসোফেন (২) মিশিয়ে প্রথমে ভাবীকে ও ভাইপো-ভাইজিকে খাওয়ায়। পরে তার ভাই শাহিনুরকে খাওয়ায়। রাত গভীর হলে রায়হানুল তোয়ালী পরে চাপাতি হাতে নিয়ে ছাদের চিলে কোঠার দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে বড় ভাইয়ের ঘরে যায়। সেখানে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুই হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়। পা দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়।
সিআইডি কর্মকর্তা আরো বলেন, রায়হানুল এসময় আস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। সে পাশের ঘরে যেয়ে তার ভাবীর গলায় চাপাতি দিয়ে কোপ মারে। এসময় ভাইপো-ভাইজিরা জেগে উঠলে তাদেরকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রায়হানুল আরো জানিয়েছে, এসময় তার মাথায় শয়তান ভর করায় সে এমন কাজ করেছে। এজন্য রায়হানুল অনুতপ্ত। এবিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানন্দী দিয়েছে রায়হানুল। এছাড়া, রায়হানুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজ দুপুরে কলারোয়ায় ঘটনাস্থলের পাশের একটি পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও বাসা থেকে পরিহিত তোয়ালে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, হত্যার পর পুকুরে গোসল করায় তোয়ালেতে কোনো রক্তের দাগ পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা আরো জানান, তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। রায়হানুলের দায় স্বীকার নিয়ে এখনো তদন্ত চলবে। গতকাল মঙ্গলবার কলারোয়ার খলসি গ্রামের যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো এদের মধ্যে আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল মালেক (৩৫) কে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমানের ঘরে ঢুকে শাহীনুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ৯ বছরের শিশু ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও ৬ বছরের শিশু কন্যা তাসমিন সুলতানাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।
১৫ আক্টোবর রাতে নিহত শাহিনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডি পুলিশকে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রায়হানুলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

Related posts

Leave a Comment