সুখ ও উন্নয়ন

(উপ- সম্পাদকীয়)

সুখ, এক অসংগায়িত এক শব্দ। যাকে কোন সঙ্গার ফ্রেমে বাধা সম্ভব হয়নি। অথচ সারা পৃথিবীর মানুষ এই সুখের সন্ধানে ধাবমান। সুখের পিছনে সকল চাওয়া পাওয়া, কেউ অল্পতে সুখী, কেউ বেশীতেও সুখী নয়। কি পেলে যে মানুষ সুখী, আর চাহিত কিছু পাওয়ার পর কতদিন সুখী থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই। সুখ হলো একটি ধারনা, সুখী হওয়া মানুষের সার্বজনীন কামনা, বাসনা, মহাবিশ্ব, সৌরজগৎ, পৃথিবী, রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার, মানুষ, মহাবিশ্ব থেকে মানুষ এই ক্রমবিন্যাস থেকে সুখের কিছু বিন্যাস বা ধারনা পাওয়া যায়, সেটাও আপেক্ষিক আবার যে বিষয়টা আপেক্ষিক, যে বিষয়টা অনির্ধারিত সেটা আবার সকল মানুষের মাঝে বিরাজমান। দরিদ্র মানুষের মনে সুখ থাকতে পারে, মধ্যবিত্ত মানুষের মনে সুখ থাকতে পারে, ধনী মানুষের মনে সুখ থাকতে পারে, অতি ধনী মানুষের মনেও সুখ থাকতে পারে। অর্থাৎ এই অনির্ধারিত শব্দটি আবার কখনও বৈষম্য করে না, সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে সুখ বিরাজ করতে পারে।

সুখের ধারনাটি সমাজের বিভিন্ন উপাদানের সাথে সম্পৃক্ত করা যায়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন উপাদান ও কার্যক্রম মানুষ সুখকে প্রভাবিত করে। সমাজের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে সামাজিক আচার, ঐ সমাজের জনগোষ্ঠী বা মানুষ, অর্থনীতি, রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক নেতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, পরিবার, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, মানুষের আচার, সামাজিক সেবা, সামাজিক সম্পৃক্ততা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সুশাসন, ন্যায় বিচার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, পরিবেশ ইত্যাদি। এত হাজারো উপাদানের মাঝে যে উপাদানটি মানুষকে সুখী বা অসুখী করার পিছনে কাজ করে তা হলো ঐ সমাজের মানুষ। কোন সমাজের নেতা আদর্শবান না হলে ঐ সমাজের মানুষ অসুখী হয়, কোন সমাজের সেবা কর্মী অর্থাৎ চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী আদর্শবান না হলে ঐ সমাজের মানুষ অসুখী হয়, কোন সমাজে সুশাসন না থাকলে ঐ সমাজের মানুষ অসুখী হয়, কোন সমাজের সাধারণ জনগণ মার্জিত না হলে ঐ সমাজের মানুষ অসুখী হয়, কোন সমাজে সামাজিক উদ্যোক্তা অর্থাৎ সেবা সৃষ্টিকারী ব্যক্তির সংখ্যা হ্রাস পেলে ঐ সমাজের মানুষ অসুখী হয়। কোন সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রুপে গড়ে না উঠলে জনগণ সেবা বঞ্চনার মাধ্যমে অসুখী হয়। কোন সমাজে আদর্শবান মানুষ তৈরি করা না গেলে, আদর্শবান মানুষ দ্বারা রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করা গেলে মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়, যা মানুষকে অসুখী করে। অর্থাৎ কোন সমাজের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সকল পেশার মানুষ মানবিক ও আদর্শবান না হলে ঐ সমাজের মানুষের সুখের উপর প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ মানুষকে সুখী বা অসুখীর জন্য মূলত মানুষই দায়ী। তাই সমাজকে সুখী, সুন্দর ও আনন্দময় করে তোলার জন্য উন্নত মানুষ প্রয়োজন। আর উন্নত মানুষের জন্য সু-শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, উন্নত সমাজ, মৌলিক চাহিদা, উন্নত পরিবেশ ও পরিবার প্রয়োজন।

মানুষের জন্য, সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য সকল উন্নয়ন, মানুষের সুখকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনার প্রয়োজন। তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষার উন্নয়ন, চিকিৎসার উন্নয়ন, মানবিকতার উন্নয়ন, সঞ্চয়, সকল সেবার উন্নয়ন মানুষের সুখকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন হবে কিন্তু মানুষের সুখ হ্রাস পাবে এবং সমাজ ও মানুষের মনে হতাশা ও অস্তিরতা তৈরি হবে এবং মানুষ অহেতু ব্যস্তময় জীবন পার করবে।

সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পরিবার। আর সুখের খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো পরিবার। পরিবারে থাকবে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, মা, বাবা ও অন্যান্য সদস্য। পরিবারের সকল সদস্যদের সুখের স্থান পরিবার। পরিবারবিহীন মানুষ বাস্তুচ্যুত মানুষের মত। মানুষের সুখকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিবারকে সুখি করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর পরিবারকে সুখী করে গড়ে তোলার জন্য পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সাথে সমাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ও মানুষের সুখের স্থান পরিবার যাতে হুমকির মুখে না পড়ে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যস্ততা উন্নত দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ শব্দ। তাদের জীবন থেকে ব্যস্ততা বাদ দিলে জীবনের কোন অর্থ থাকে না। কর্মের মাঝে মানুষের জীবনের স্বার্থকতা। কিন্তু অতি কর্মের জন্য জীবনকে অতি ব্যস্তময় করে তোলা জীবনের উদ্দেশ্য নয়। জীবনকে বুঝতে দেওয়া, নিজেকে সময় দেওয়া, পরিবারকে সময় দেওয়া, মানবসেবায় সময় দেওয়া ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে জীবনের স্বার্থকতা ও চরম সুখ। অতি ব্যস্থতা জীবনকে যান্ত্রিক, পরিবার চ্যুত, সমাজ চ্যুত ও মূল্যবোধহীন জীবনে পরিণত করে, যা সুখী জীবনের চরম অন্তরায়। আর যদি অতি ব্যস্থতা আত্মকর্মমুখর হয়, মানব সেবা ধর্মী না হয় তা হলে সেই জীবন সুখময় এর পরিবর্তে ভোগময় আর ব্যর্থ জীবনে পরিণত হয়।

উন্নয়নের কোন ধরাবাধা সংজ্ঞা নেই। উন্নয়ন একটি আপেক্ষিক বিষয় কারন উন্নয়নের কোন শেষ নেই। আসলে সবকিছু সুখ ও সময়ের মত আপেক্ষিক। জীবন আপেক্ষিক, জীবনকাল আপেক্ষিক, মহাবিশ্ব আপেক্ষিক, চাহিদা আপেক্ষিক, ভালো আপেক্ষিক, মন্দ আপেক্ষিক, জ্ঞান আপেক্ষিক, আলো আপেক্ষিক, অন্ধকার আপেক্ষিক, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আপেক্ষিক, আবিস্কার আপেক্ষিক, সংখ্যা আপেক্ষিক, গণিত আপেক্ষিক, বিজ্ঞান আপেক্ষিক, সত্য আপেক্ষিক, মিথ্যা আপেক্ষিক, সাদা আপেক্ষিক, কালো আপেক্ষিক।  তাই মহাবিশ্বে বিরাজমান সব কিছুই আপেক্ষিক। আর উন্নয়ন খুব বেশি আপেক্ষিক। আজ যেটা সর্বোচ্চ উন্নয়ন, অদূর ভবিষ্যতে সে উন্নয়ন সেকেলে হয়ে যায়। তাই সময়ের সাথে উন্নয়নের ধরন, কাঠামো, সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়। তবে যেখানে আপেক্ষিকতা, যৌগিকতা, অনির্দিষ্টতা থাকবে সেখানে কিছু মৌলিকতা থাকবে, তাই উন্নয়নের কিছু মৌলিক দিক বা উপাদান রয়েছে, যেমনটি রয়েছে চাহিদার। চাহিদা আপেক্ষিক হলে তার কিছু মৌলিকতা আছে, যাকে আমরা মৌলিক চাহিদা বলি।

উন্নয়ন নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংজ্ঞা দিয়েছেন। যাকে আমি আপেক্ষিক সংজ্ঞা মনে করি।

কিল্ডার বার্গার ও হেগেলে বলেছেন, ‍“উন্নয়ন হলো কাঠামোগত পরিবর্তনের সাথে উৎপাদন বৃদ্ধি”।

বয়ার ও ইয়ান বলেছেন, “উন্নয়ন হলো জীবনযাত্রার সঙ্গে সুবিধাদির পছন্দমত সম্প্রসারন”।

অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন বলেছেন, “উন্নয়ন হলো মানুষের স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করার প্রক্রিয়া”।

আসলে যে বিষয়টি আপেক্ষিক, যে বিষয়ের কোন নির্দিষ্ট কোন অর্থ বা কাঠামো নেই, তাকে হাজারোভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে।

আমার মতে উন্নয়ন হলো, “সুখকে কেন্দ্র করে দেশের জনগনের মানবিক, নৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও মৌলিক চাহিদার কাঙ্খিত উন্নয়ন”।

উন্নয়নকে আবার ব্যক্তিগত উন্নয়ন, পারিবারিক উন্নয়ন ও জাতীয় উন্নয়নে ভাগ করা যায়। উন্নয়নের নির্দেশক হিসাবে মাথাপিছু আয়, জিডিপি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন, ব্যবসার সম্প্রসারন, রপ্তানিমুখী উৎপাদক, সঞ্চয়, জীবন নির্বাহে ব্যয় হ্রাস ইত্যাদিকে বুঝায়।

সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য টার্গেট ভিত্তিক উন্নয়ন করা প্রয়োজন। যেমন আগামী ৫ (পাঁচ) বছরে কতটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, কতটি আন্তর্জাতিক মানের হসপিটাল স্থাপন করা হবে, কত সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে, কত কিলোমিটার সড়ক ও রেলপথ স্থাপিত হবে, কতটুক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে, বিদেশে কত সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে, কি কি রপ্তানি পন্য উৎপাদন করা হবে, কতটুক রপ্তানী করা হবে, শিশু মৃত্যু হার কতটুক কমানো হবে, কতটুক পুষ্টির উন্নয়ন ঘটানো হবে, কত সংখ্যক নারীকে কর্মসংস্থান করা হবে, নারীর কর্মসংস্থানের জন্য কতটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চয় কতটুকু হবে, পরিবার পর্যায়ে সঞ্চয় কতটুকু হবে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঞ্চয় কতটুকু হবে, মানবিক উন্নয়নের সূচক কতটুকু হবে, মানব সম্পদ উন্নয়ন কতটুকু হবে, শিশুর জীবনমান উন্নয়নে কি পরিমান প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, দারিদ্র বিমোচনে কতগুলো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য কতগুলো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, সর্বাধুনিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য কতগুলো অত্যাধুনিক হসপিটাল প্রতিষ্ঠিত হবে, কতগুলো প্রতিষ্ঠান ডিজিটালাইড করা হবে, আমদানী করতে হয় এমন পন্য কতগুলো দেশে উৎপাদন করা হবে, বিভিন্ন বয়সের জনগণকে বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরী করে ক্যাটাগরী অনুযায়ী কত সংখ্যক জনগণকে কর্মসংস্থান করা যাবে, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য মূল্য কতটুকু কমিয়ে আনা যাবে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কতটুকু সম্প্রসারিত করা যাবে, সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ কতটুকু করা যাবে, কতটুকু নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা যাবে, কতটুকু নৈতিক মূল্যবোধ সমাজ তথা মানুষের মাঝে সৃষ্টি করা যাবে, সেক্টর ভিত্তিক সুপার স্পেশালিষ্ট দক্ষ জনবল তৈরি করা যাবে, কতসংখ্যক গবেষক ও বিজ্ঞানী তৈরি করা যাবে।

সকল উন্নয়নের সেরা উন্নয়ন নৈতিকবান মানবিক নেতৃত্ববান দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন। আর সুনাগরিক মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য পারিবারিক কাঠামো উন্নয়ন, সর্বস্তরে শিক্ষার মান উন্নয়ন, সমাজে মূল্যবোধ সৃষ্টি, সুস্থ্য ও শৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি, মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যা মৌলিক সুখের প্রধান নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

কোন রাষ্ট্র বা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সুশাসন এর সাথে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ভারসাম্য না থাকলে তখন রাষ্ট্র বা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, পারিবারিক বন্ধন দূর্বল হয়, দরিদ্র আরো দরিদ্র হয়, মধ্যবিত্ত দরিদ্র হয়, সুবিধাবাদী শ্রেণী আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়, অমার্জিত ধনী শ্রেণী সৃষ্টি হয়, মানবিক মূল্যবোধ হ্রাস পায়, স্বার্থপর শ্রেণী তৈরি, মধ্যস্বত্ত্ব শ্রেণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, নেতৃত্ব দূর্বল হয়, সমাজে সিন্ডিকেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, সম্ভ্রান্ত পরিবারের সংখ্যা হ্রাস পায়, আদর্শিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা হ্রাস পায়, ব্যক্তি-পারিবারিক-সামাজিক সুখ হ্রাস পায়, সর্বোপরি মানব জীবন হতাশাগ্রস্থ ও দুর্বিসহ হয়।

তাই আদর্শিক মানব সম্পদ উন্নয়ন, সুশাসন ও উন্নত অবকাঠামোগত একই স্তরে হওয়া প্রয়োজন, যাতে সামগ্রিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে এবং সুখী সমৃদ্ধ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

উন্নয়নের অনেকগুলো উপাদানের আর্থিক সঞ্চয়, আবার ব্যক্তি বা পারিবারিক আর্থিক নিশ্চয়তার নিয়ামক হলো সঞ্চয় বা ব্যক্তি বা পরিবারকে সুখী সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি পরিবার কতটুকু সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত যা ঐতিহ্যবাহী তার অনেকাংশ নির্ভর করে আর্থিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার উপর, যার একটি অংশ সঞ্চয় নির্ভর। সঞ্চয়হীন ব্যক্তি দূর্বল, অনিরাপদ ও সম্পদহীন। সঞ্চয়হীন পরিবার সমাজে দরিদ্র পরিবার। সঞ্চয়হীন রাষ্ট্র আর্থিকভাবে দূর্বল ও দরিদ্র রাষ্ট্র। সঞ্চয়হীন উন্নয়ন দূর্বল ও ভাসমান উন্নয়ন। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সকল শ্রেণীর নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা সকল পর্যায়ে সুখের নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

দারিদ্র বিমোচনেও সঞ্চয় একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। সঞ্চয়ের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলা সম্ভব। এজন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠির দারিদ্র বিমোচনের জন্য সঞ্চয়ে আকৃষ্ট করার জন্য সঞ্চয় প্রনোদনা বা ভূর্তকির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সকল উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু জনগণের সুখ, সকল উদ্যোগের সর্বশেষ পরিণতি জনগণের সুখ, সকল কর্মকান্ডের উদ্দেশ্য জনগণের সুখ, সেটা সচেতন মনে অথবা অবচেতন করা হউক না কেন। সুখকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন না করলে জীবন হবে অহেতুক ব্যস্তময়, ব্যয় বহুল, হতাশাগ্রস্থ, আত্মহত্যা প্রবণ ও কৃত্রিম চাকচিক্যময়, আদর্শচ্যুত, বিবেক বর্জিত, অনুভূতিহীন, যা ইতিমধ্যে অনেক উন্নত দেশে লক্ষ করা যায়। প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, মাটির সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, সংস্কৃতির সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, সুখের সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, জীবনের ব্যস্ততা ও ব্যয়ের সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, মানবতার সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িকতার সাথে রেখে উন্নয়ন, প্রযুক্তির সাথে সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন, যা উন্নয়নকে টেকসই ও জীবন যাত্রা সহজ-সরল, সুখময় করবে। চাকচিক্যময় উন্নয়নের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে একটি মানবতাবোধ সম্পন্ন সুখী সমৃদ্ধ উন্নত সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

 

জিয়াউর রহমান,( লেখক ও গবেষক)।

Leave a Comment