১৩ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তিন, অন্যান্য ১০||সহিংসতায় আহত ১৫

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ফলাফলে আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী জয় পেয়েছে। বাকী ১০টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

বাশদহা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. মফিজুর রহমান, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. আজমলউদ্দীন, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মো. আলাউদ্দীন, ধুলিহরের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী, বৈকারী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু মোস্তফা কামাল, শিবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ, ঘোনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল কাদের, ফিংড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমান, লাবসা ইউনিয়নে (বিএনপি) আব্দুল আলিম, বল্লী ইউনিয়নে (বিএনপি) সমর্থিত এড. মো. মহিতুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়নের (জাতীয় পার্টি) ইসরাইল গাজী, আগরদাড়ি ইউনিয়নে (স্বতন্ত্র) কবির হোসেন মিলন ও কুশখালী ইউনিয়নে (জামায়াত) মাওলানা আব্দুল গফ্ফার জয় পেয়েছেন।

এদিকে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো দ্বিতীয় ধাপের সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন। দিনভর ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মত। নির্বাচনী সহিংসতায় বৈকারী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বারোজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর কেন্দ্রে মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়ার চেষ্টাকালে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলেসহ উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের মধ্যে প্রথমে ৫ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আরও ৭জনকে সদর হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন, আসাদুজ্জামান অসলে (৬০),জহির রায়হান (২২),আব্দুস সামাদ (৫০),মাসুদ গণি (২২),আবু সাইদ (২৮),আরিফ হোসেন (৩৬),গোলাম মোস্তফা(৪৮),হাফিজুল ইসলাম (৪০),মজনুর রহমান (৩৬),মনিরুল ইসলাম (৩৫),আনিসুর রহমান (৩১) ও সাইদুর রহমান (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বৈকারী ইউনিয়নের কাথন্ডা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী আব্দুল জলিলের বাড়িতে হামলা করা হয়। এতে আব্দুল জলিলসহ তিনজন আহত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর তৎপরতা ছিল লক্ষনীয়। বৈকারী ছাড়া বাকি ১২টি ইউনিয়নে উল্লেখ করার মত নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। এরআগে সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌছানোর পর শুরু হয় ভোট গ্রহন।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নে ৬৪জন চেয়ারম্যান, ৪৯১ জন সাধারন সদস্য পদে ও ১৬০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করেছেন। ১২৬ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন এস.আইএর নেতৃত্বে ৫জন পুলিশ ও ১৭জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব ও বিজিবি টহল দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সদর উপজেলায় মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ এক লাখ ৩৪ হাজার ২২৪ জন ও নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৪২৯ জন।

বৈকারী ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পুলিশের পরিদর্শক আবুল কালাম জানান,দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে লাটিচার্জ করে দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। তারপর থেকে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান,দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ১৩টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। শহর উপকণ্ঠের লাবসা ইউনিয়নের তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রের ৫ হাজার ৩শ’ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ১শ’ জন ভোটার। ভোট প্রদানের হার প্রায় ৭৮ শতাংশ।

Related posts

Leave a Comment